ভাল্লাগসেভাল্লাগসে কস্কি মমিনকস্কি মমিন

আনোয়ার হোসেন: মুক্তিযুদ্ধে যার এক হাতে ছিল রাইফেল, আরেক হাতে ক্যামেরা

দেশে চলছে যুদ্ধ! অদম্য মুক্তিযোদ্ধারা ঝাঁপিয়ে পড়েছে পাক সৈন্যদের বিরুদ্ধে আর এ দৃশ্যের বিপরীতে আছে লাশ আর হত্যার মারণযজ্ঞ। এই সব পরিস্থিতির ভেতরে ক্যামেরা হাতে একজন ঘুরে বেড়াচ্ছেন ঢাকার বিভিন্ন জনপদে, তিনি আমাদের আনোয়ার হোসেন! থ্রি-নট-থ্রি রাইফেল হাতে এবং গলায় ওয়ান টুয়েন্টি ক্যামেরা। এই যুবকটির হাতেই স্থিরবন্দি হয়েছিল আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অসহায়ত্ব এবং বিজয়ক্ষণের আইকনিক সব মুহূর্ত! আজ তাঁর জন্মদিনে তাঁর প্রতি রইলো শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা।

আনোয়ার হোসেন ছিলেন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক মানের একজন আলোকচিত্রী এবং চলচ্চিত্র ভিডিওগ্রাফার। আনোয়ার হোসেনের জন্ম ১৯৪৮ সালে, পুরান ঢাকার আগা নবাব দেউড়িতে। তার বাবা কাজ করতেন সিনেমা অফিসে।

শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক হিসেবে ৫ বার জাতীয় পুরষ্কার পাওয়া আনোয়ার হোসেন তার আলোকচিত্রী জীবনের শুরু করেন মাত্র দুই ডলার (সমমান ৩০ টাকা) দিয়ে কেনা প্রথম ক্যামেরা দিয়ে। প্রথম সাত বছর ধার করা ক্যামেরা আর চলচ্চিত্রের ধার করা ফিল্ম দিয়েই তিনি কাজ করেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় আনোয়ার হোসেনের এক হাতে ছিল রাইফেল, আরেক হাতে ক্যামেরা। এভাবেই তিনি যুদ্ধ করেছেন, তুলেছেন যুদ্ধদিনের অসামান্য সব আলোকচিত্র। পৃথিবীর কোনো জাতিতেই খুব বেশি আলোকচিত্রী খুঁজে পাওয়া যায় না, যাঁরা নিজেই তাঁদের দেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের আলোকচিত্র গ্রহণের জন্য নিজেদের ক্যামেরা ফোকাস করেছেন; অল্পসংখ্যক মানুষই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কেবল এই কাজ করেছেন। আনোয়ার হোসেন তাঁদের অন্যতম। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলো তাঁর ছবিগুলোতে যেভাবে ফুটে উঠেছে তা আজও আমাদের যুদ্ধ এবং বিজয়ের সেই ক্ষণের প্রতীক হয়ে আছে।

যুদ্ধের ভয়াবহতার অন্যান্য আলোকচিত্র দেখে বোঝা যায় সেগুলো কোনো একজন সংবাদচিত্রীর হাতের কাজ। আনোয়ার হোসেনের ছবিতে পাওয়া যায় শিল্পের উত্তাপ! যা মানুষ, মানুষের আবেগ এবং পারিপার্শিক অবস্থা শিল্পে রূপান্তর করে। ব্যাকগ্রাউন্ড ঝাপসা করা সেই সময়ে বেশ জটিল ছিল, লেন্স ও ক্যামেরার সীমাবদ্ধতার কারণে। ২৫ মার্চ কালরাতের নারকীয় ঘটনার বেশ কিছু আলোকচিত্র তুলেছিলেন আনোয়ার, যা দেখে রীতিমতো কেঁপে উঠেছিল পুরো বিশ্ব। তাঁর ক্যামেরায় ১৬ ডিসেম্বরে আমাদের বিজয়ের যে দৃশ্য দেখেছে বাংলাদেশ, তা এখন ‘আইকনিক’ হয়ে আছে।

এরপরও জীবন আর শিল্পকে তিনি টেনে নিয়ে গেছেন বহুকাল। অবিরাম কাজ করে গেছেন আলোকচিত্রে, স্থাপত্যে কাজ করেছেন লুই কানের সঙ্গে, ভারতের পুনে ফিল্ম ইনস্টিটিউট থেকে পড়াশোনা শেষ করে চিত্রগ্রাহকের কাজে তিনি যে নৈপুণ্য দেখিয়েছেন, এ জন্য বাংলাদেশ অনন্তকাল মনে রাখবে তাঁকে।

বাংলাদেশের আধুনিক আলোকচিত্র আন্দোলনের মহানায়ক আনোয়ার হোসেন। তাঁর মতো আন্তর্জাতিকমানের মহাতারকা খুব বেশি নেই আমাদের। কিন্তু জীবনের শেষ বছরগুলোতে তিনি ছিলেন উপেক্ষিত। তাঁর কাজের ষোলোআনা স্বীকৃতি দিতে পারেনি বাংলাদেশের সমাজ। এই কৃতী সন্তানকে জানাতে পারেনি যথার্থ সম্মান ও মর্যাদা।

যারা Anime দেখতে পছন্দ করেন, তাদের জীবন থেকে নেয়া ৮টি ঘটনা

যে ৮টি কারণে আমাদের জীবনে মশা অতি উপকারী বন্ধু