ভাল্লাগসেভাল্লাগসে

বঙ্গভুমে ব্যান্ড ও তার ইতিকথা

IN ASSOCIATION WITH   

“ব্যান্ড সংগীত” শূনতে আর দশটা সাধারন শব্দের মত মনে হলেও এর মাঝে কি লুকিয়ে আছে তা শুধু যারা ব্যান্ড সংগীতের অনুরাগী তারাই বলতে পারবেন, কি নেই এতে প্রতিবাদ, তারুন্যের উদ্দামতা, ভালোবাসা সব ই পাওয়া যায়। ব্যান্ড সংগীত বলতে মুলত কোন শব্দ নেই , বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মুলত প্রচলিত আধুনিক বাংলা গান ঘরানার বাইরে গিয়ে রক ঘরানার সঙ্গীতকেই ব্যান্ড সঙ্গীত বোঝায়। বাংলাদেশের গর্ব করার মত যে কয়েকটি বিষয় রয়েছে সে পরিবারের একজনই ব্যান্ড সংগীত আর আজকে আমরা কথা বলবো আমাদের ব্যান্ড সংগীতের সব কিছু নিয়েই

ইতিহাস

স্বাধীনতার আগে থেকেই এ অঞ্চলে ব্যান্ড কালচার চলে আসছে , পাক-ভারত বিভক্তির পরে ১৯৬৩ সালের ১৮ মার্চ ঢাকার সেন্ট গ্রেগরিজ স্কুলের এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রথম ব্যান্ড ধাঁচের গানের খবর পাওয়া যায়, সেই ব্যান্ডের নাম ছিলো আইওলাইটস। স্কুল পড়ুয়া কিছু বন্ধু ফজলে রব, আলমগীর [পরবর্তীকালে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের জনপ্রিয় গায়ক], রফিক ও সাব্বির ব্যান্ড দল গঠন করেন। চট্টগ্রামে তাদের সমসাময়িক আরেকটি ব্যান্ড দল ও সে সময় ছিলো যারা জিঙ্গা শিল্পীগোষ্ঠী নামে পরিচিত ছিলো তাই এই অঞ্চলে প্রথম ব্যান্ড কোনটি তা নিয়ে বেশ বিতর্ক রয়েছে।

আলমগীর

তারপর উইন্ডিসাইট অব কেয়ার, র‌্যাম্বলিং স্টোনস লাইটনিংস নামে আরো কিছু ব্যান্ড পরবর্তীতে গড়ে উঠে যারা সে সময় তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে বেশ জনপ্রিয় ছিলো।স্বাধীনতার পরে ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় আগলি ফেসেস আন্ডারগ্রাউন্ড পিস লাভারস নামের দুটি ব্যান্ড। এখানেও সাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের প্রথম ব্যান্ড নিয়ে বিতর্ক থাকলেও অধিকাংশের মতে আন্ডারগ্রাউন্ড পিস লাভারস ই বাংলাদেশের প্রথম ব্যান্ড। কিন্তু এসব ব্যান্ড গুলো মূলত ইংরেজী গানই বেশি পারফর্ম করতো তাই যখন বাংলা গান নিয়ে আজম খানের উচ্চারন, ফেরদৌস ওয়াহিদের স্পন্দন কিংবা ফকির আলমগীররা আসেন তখন তা রীতিমত আলোড়ন তুলে ফেলে বাংলাদেশে, রেল লাইনের ঐ বস্তিতে ,ওরে সালেকা ওরে মালেকা  কিংবা এমন একটা মা দেনার মত গান গুলো মানুষের মুখে মুখে চলে আসে।

উচ্চারন

এরপর আসতে আসতে সোলস, ফিডব্যাক টুয়েন্টিথ সেঞ্চুরি, বালার্ক, অ্যাবনরমাল থ্রি প্লাস, মাইলসের মত ব্যান্ড গুলো বাংলা ব্যান্ডের নতুন ইতিহাস তৈরি করে। মন শুধু মন ছুঁয়েছে, আগের জনম, এ এমন পরিচয়, কেন এই নিঃসঙ্গতা, চায়ের কাপে পরিচয়  ইত্যাদি গানের জন্য সোলস আজো মানুষের মনে গেথে থাকা ব্যান্ড এবং বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘায়ু ব্যান্ড ও এটি আশির দশকে বালর্ক ছেড়ে হ্যাপী আখন্দ, ইমতিয়াক, কামাল, ল্যারীর প্রতিষ্ঠা করা ব্যান্ড মাইলসে যোগ দেন হামিন ও শাফিন আহমেদ, ফিরিয়ে দাও, চাঁদ তারা সূর্য, জ্বালা জ্বালা, কি জাদু, ধিকি ধিকি আগুন জ্বলে সহ অজস্র জনপ্রিয় গানে সমৃদ্ধ ব্যান্ড মাইলস। ১৯৭৬ সালের ফিডব্যাক টুয়েন্টিথ সেঞ্চুরি বিবর্তনের ফলে এখন ফিডব্যাক নামেই বেশি পরিচিত মেলা, মৌসুমী, চিঠি, পালকীর  মত অসম্ভব জনপ্রিয় গানের স্রস্টা এই ব্যান্ড। এছাড়া নব্বইয়ের দশকে সঞ্জীব চৌধুরীর হাতে গড়ে তোলা ব্যান্ড দলছুট এখনো তুমুল জনপ্রিয় বাপ্পা মজুমদারের হাত ধরে।

মাইলস

১৯৮৪ বাংলা ব্যান্ড সংগীতে নতুন পালক নিয়ে গান নিয়ে শ্রোতার মধ্যে আসে ওয়ারফেইজ। স্কুলপড়ূয়া বন্ধু সঞ্জয়, বাবনা, টিপু, রাসেল, কমলদের হাতে জন্ম নেওয়া ব্যান্ড এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় হেভি মেটাল ব্যান্ড অবাক ভালোবাসা, জীবনধারা, একটি ছেলে, সময়, অসামাজিক সহ অসংখ্য জনপ্রিয় মেটাল ও হার্ডরক গানের স্রষ্টা এই ব্যান্ড।

ওয়ারফেইজ

তবে বাংলা ব্যান্ড সংগীতে যাদের কথা না বললেই নয় তারা হলেন জেমস ,আইয়ুব বাচ্চু এবং হাসান নব্বইয়ের দশক দাপিয়ে বেড়ানো এই শিল্পীদের পিউর রকস্টার বলতে যা বোঝায় তারা সেটিই একাই স্টেজ কাপিয়ে দেয়ার ক্ষমতা রাখতেন এরা ।সময়ের বিবর্তনে হাসান এবং তার ব্যান্ড আর্ক কিছুটা হারিয়ে গেলেও জেমস এবং আইয়ুব বাচ্চু এখনো বাংলাদেশের সেরা ব্যান্ড মিউজিসিয়ান, জেমসের ব্যান্ডের নাম নগর বাউল এবং আইয়ুব বাচ্চুর ব্যান্ডের নাম এল আর বি।

আইয়ুব বাচ্চু, জেমস এবং হাসান

 

নতুনদের সময়ে

নব্বইয়ের শেষের দিকে এবং এই শতকের শুরুর দিকে গড়ে উঠা বিভিন্ন ব্যান্ড অর্থহীন,আর্টসেল ব্ল্যাক, ক্রিপটিক ফেইট,শিরোনামহীন, চিরকুট,মেঘদল,জলের গান তাদের নিজস্ব গানের স্টাইল দিয়ে গড়ে তুলেছে নিজস্ব শ্রোতা শ্রেণী, এছাড়া তো রয়েছে আরো নাম না জানা কত আন্ডারগ্রাউন্ড ব্যান্ড যারা এই পাইরেসি এবং সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের যুগেও স্বপ্ন দেখে বাংলাদেশের ব্যান্ড মিউজিক আবার আগুনের মত জ্বলে উঠবে এবং আমরা যারা ব্যান্ড মিউজিক ভালোবাসি তারাও আশায় দিন গুনি।

আর্টসেল

বাংলাদেশের ব্যান্ডের ইতিকথা তো জানা হলো, কিন্তু পছন্দের সব বাংলা গান একসঙ্গে একটা জায়গায় পাওয়া এক মহা ঝামেলা, আর যদি ভাগ্য বশত পেয়েও যান সেখানে আছে বাফারিংয়ের আরও বড় ঝামেলা। তার উপর পছন্দের সব গান মোবাইলে ডাউনলোড করতে গেলে মোবাইল বাবাজির মেমোরি স্পেস খানা আবার রাগ করে বসে। তাই এসব যন্ত্রনা থেকে মুক্তি দিতে অফুরন্ত বাংলা গানের ভান্ডার নিয়ে এসেছে GAAN মিউজিক অ্যাপ। GAAN অ্যাপটি ডাউনলোড করতে ভিজিট করুন গুগল প্লে অথবা অ্যাপ স্টোর

Written by Bishal Dhar

নাম ধাম তো দেখসেন আর কি দেখেন , অতিরিক্ত কৌতুহল ভালো না যান লেখা পড়েন

ছ্যাঁকা খেয়ে ব্যাঁকা, অতঃপর ছেলেরা যা করে…

প্রত্যেকের জীবনে ঘটে এমন ১০টি রহস্যময় পরিস্থিতি যার ব্যাখ্যা খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন