ভাল্লাগসেভাল্লাগসে সেন্টি খাইলামসেন্টি খাইলাম কস্কি মমিনকস্কি মমিন

রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর ব্যক্তিগত জীবন ও অজানা কিছু কথা

রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ ছিলেন তারুণ্যের কবি, দ্রোহের কবি, প্রেমের কবি। মাত্র ৩৫ বছর বয়সেই কবি আমাদেরকে ছেড়ে চলে যান। কিন্তু এই অল্প বয়সেই তিনি বাংলা সাহিত্যকে যা দিয়ে গেছেন তা অতুলনীয়। আজ এই প্রিয় কবির জন্মদিন, তাকে স্মরণ করে চলুন জেনে নেই রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর ব্যক্তিগত জীবন ও তার সম্পর্কের কিছু অজানা কথা।

রুদ্রর জন্ম ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর বরিশাল রেডক্রস হাসপাতালে। তার মায়ের নাম শিরিয়া বেগম, বাবার নাম শেখ ওয়ালীউল্লাহ। তাদের স্থায়ী নিবাস ছিল বাগেরহাট জেলার মংলা থানার সাহেবের মেঠ গ্রামে। দশ ভাই বোনের মাঝে তিনিই ছিলেন সবার বড়। ছেলেবেলা থেকেই প্রিয় কবি রবীন্দ্রনাথ আর নজরুলের বইপত্রের মধ্যে ডুবে থাকতেন। পিতামাতার ইচ্ছা ছিল, রুদ্র ডাক্তার হোক। কিন্তু রুদ্র বিজ্ঞানের পথে আর না গিয়ে তার পছন্দের মানবিক শাখাকে বেছে নেন।

আমায় যদি তুমি বলো ঈশ্বর,
আমি বলব, হ্যাঁ আমি তাই।
আমায় যদি বলো পাপী শয়তান,
আমি বলব, হ্যাঁ আমি তাই-ই।
-কারণ আমার মাঝে যাদের অস্তিত্ব
তার একজন ঈশ্বর; অপরজন শয়তান।
তাই যখন শয়তানের ছবিটি ভাসে
আমার মানব অবয়বে- তখন আমি পাপী।
আর যখন সত্যের পূর্ণতায় আমি-
মানবের কল্যাণে আমার কর্ম
ঠিক তখনই আমি ঈশ্বর; কারণ
সত্য, পুণ্য আর মানবতাই ঈশ্বর।
কবিতাটির নাম ‘আমি ঈশ্বর আমি শয়তান’। রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর প্রথম কবিতা। ১৯৭৩ সালে দৈনিক আজাদ পত্রিকায় প্রকাশ হয় কবিতাটি। দশম শ্রেণীর ছাত্র তখন আমাদের প্রিয় কবি, কিন্তু তার লিখায় তাঁর ভাবনা- চিন্তাধারা তখন থেকেই সুস্পষ্ট।

‘ভালো আছি ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখ’ গানের স্রষ্টা রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ। তিনি সাতটি কাব্যগ্রন্থ ছাড়াও গল্প, কাব্যনাট্য ও অর্ধশতাধিক গান রচনা ও সুরারোপ করেছেন। ‘ভালো আছি ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখ’ গানটির জন্য তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি প্রদত্ত ১৯৯৭ সালের শ্রেষ্ঠ গীতিকারের (মরণোত্তর) সম্মাননা লাভ করেন। ‘উপদ্রুত উপকূল’ ও ‘ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম’ কাব্যগ্রন্থ দুটির জন্য ‘সংস্কৃতি সংসদ’ থেকে পর পর দুবছর ‘মুনীর চৌধুরী সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।

রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ বিয়ে করেন ১৯৮১ সালে, স্ত্রীর নাম লীমা নাসরিন। পরবর্তীকালে তিনি তসলিমা নাসরিন নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন ও নিজের বিতর্কিত লেখালেখির জন্য আলোচিত- সমালোচিত হয়ে উঠেন। ১৯৮৮ সালে তাদের দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটে।

“চলে যাওয়া মানে প্রস্থান নয়- বিচ্ছেদ নয়
চলে যাওয়া মানে নয় বন্ধন ছিন্ন-করা আর্দ্র রজনী
চলে গেলে আমারও অধিক কিছু থেকে যাবে আমার না-থাকা জুড়ে।”
-রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

বাংলার আরও অনেক প্রতিভাময় কবি ও সাহিত্যিকের মতো রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহও চলে যান খুব কম বয়সে। মাত্র ৩৫ বছর বয়সে তিনি ঢাকায় মৃত্যবরণ করেন। ব্যক্তি হিসেবে এবং কবি হিসেবে রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ বাঙালি পাঠকদের মনে যে চিন্তার বীজ বুনে গিয়েছেন তা আজও আমরা অনুভব করি। তার কবিতা আজও ভাবতে শেখায়, ভালোবাসতে শেখায় হাজারো তরুণ প্রাণকে।

আলু ছাড়া আলু ভর্তা বানাতে বলায় বউয়ের হাতে মারধরের শিকার উত্তরার শাহীন

ছোটবেলায় যে ৮টি ভুল বিশ্বাস আমাদের সবারই মাঝেই ছিল