ভাল্লাগসেভাল্লাগসে মাইরালামাইরালা কস্কি মমিনকস্কি মমিন সেন্টি খাইলামসেন্টি খাইলাম

আমার প্রথম পিরিয়ড আর তা নিয়ে কিছু দুঃখ, ভয় আর হাসির স্মৃতি, যা অনেকের কাছেই রিলেটেবল

পিরিয়ডের সাথে সব মেয়েদেরই Love-Hate Relationship আছে। আপনারাও কি আমার সাথে একমত? আমি নিশ্চিত আপনিও কিছুটা হলে আমার ঘটনাগুলোর সাথে আপনার প্রথম পিরিয়ড অভিজ্ঞতার মিল খুঁজে পাবেন।

পিরিয়ড যতই বিরক্তি এবং ঝামেলার কারণ হোক না কেন, শরীর সুস্থ স্বাভাবিক আছে জানতে সময়মতো পিরিয়ড হবার কোনো বিকল্প নেই! তাই মেয়েরা একই সাথে চায় পিরিয়ড হোক আবার না হোক। পার্সোনালি পিরিয়ডের সাথে আমার বেশ কিছু হাস্যকর স্মৃতি আছে, বিশেষ আমার প্রথম পিরিয়ডের অভিজ্ঞতা নিয়ে।

ঘটনার শুরু স্কুলে এবং বোরিং একটি ক্লাস দিয়ে –

যখন আমার বয়স ১০ কি ১১ তখন পাঠ্যবইয়ে শারীরিক শিক্ষা বিষয়ক অধ্যায়গুলো আমাদের শিক্ষক/শিক্ষিকারা খুব কৌশলে এড়িয়ে যেত।

via GIPHY

“পৃষ্ঠা নম্বর উমুক থেকে উমুক পর্যন্ত বাসায় পড়ে নিও” এমন কথা ছিল তখন খুবই স্বাভাবিক। মাঝে মাঝে বন্ধুরা মিলে টিফিনের ফাঁকে খুলে দেখতাম বইয়ের সেই অধ্যায়টি। তখন সৃষ্টি হতো নানা জল্পনা কল্পনার। কেউ কেউতো ভয়েই মরে যেত, আবার কেউ কেউ হাস্যকর গল্পও সাজিয়ে ফেলতো পিরিয়ড নিয়ে। মোট কথা “পিরিয়ড/মাসিক/ Menstruation” এই শব্দগুলো তখন আমাদের জন্য Lord Voldemort হয়ে গেল| WHAT MUST NOT BE NAMED!

via GIPHY

অনেক প্রশ্ন, ভয়, এবং কৌতূহল –

ক্লাসে যখনই পিরিয়ড ব্যাপারটা ট্যাবু হয়ে গেলো, আমি এবং আমার বন্ধুদের মাঝে পিরিয়ড নিয়ে কৌতূহল ১০গুন্ বেড়ে গেলো। প্রায়ই খেলার মাঝে কিংবা আড্ডার ফাঁকে এই প্রসঙ্গ কোন না কোন ভাবে চলেই আসতো। কেউ স্কুলে না আসলে সবাই ধরেই নিতো পিরিয়ড হয়েছে। আর সবচেয়ে কমন টার্ম হয়ে দাঁড়িয়েছিল “শরীর খারাপ”!
হাত ব্যথা, মাথা ব্যথা, পেট ব্যথা, ডায়রিয়া ইত্যাদি সব নাম ২৪ দাঁত বের করে বলা সম্ভব হলেও পিরিয়ড উচ্চারণ করতে গেলে তা শরীর খারাপ হয়ে যেত।

via GIPHY

তারপর কোন এক দুপুরে অনাকাঙ্খিত সেই সময় চলেই এলো –

প্রথমে মনে হয়েছিল পা কেটে গেছে, কিংবা রং লেগেছে। পিরিয়ড সম্পর্কে হালকা জানার পরও Momentary Shock ছিল অনেক বেশি।

via GIPHY

হাস্যকর ভাবে মনে মনে দোয়াও করছিলাম যেন এটা সত্য না হয়। আমার কিছু বন্ধুতো ভয়ে অজ্ঞানও হয়েছিল, কেউ কেউ আবার কান্নাকাটি করে দুনিয়া ভাসিয়ে দিয়েছিলো। পরবর্তীতে বন্ধুদের সাথে যখন প্রথম পিরিয়ড নিয়ে কথা হয় তখন আমরা সবাই নিজেদের বোকামিগুলো শুনে হেসেছিলাম। তবে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা মনে হয় তাদেরই আছে যাদের প্রথম পিরিয়ড স্কুলে হয়েছিল

এবং পিরিয়ড যুদ্ধ শুরু –

via GIPHY

এখন আমি যখন আমার প্রথম পিরিয়ড নিয়ে ভাবি অনেক হাসি পায়। কতই না ভয়, ভুল ধারণা ছিল আমাদের। ১০/১১ বছরের এক পাল বাচ্চাদের সঠিক শিক্ষা এবং অভয় না দিয়ে সমাজ, শিক্ষা ব্যবস্থা এবং মুরুব্বিরা সংকোচে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল, গড়ে তুলেছিল এক দেয়াল। তবে পেরিয়েছে অনেকগুলো বছর, এখন আগের তুলনায় অনেক সহজেই পিরিয়ড সচেতনতা নিয়ে কথা বলা যায়। কিন্তু এখনো ভয়, ভুল, ভ্রান্তি কমেনি। এখনো অনেক কিশোরী, তরুণী, মহিলারা পিরিয়ড এবং শারীরিক নান সমস্যায় ভোগে কিন্তু সংকোচ এবং লজ্জায় অতীতের স্কুলের সেই অধ্যায়টির মতোই চেপে যায়! অথচ আজও যদি আমরা কাল্পনিক গল্পের Lord Voldemort এর মতো “পিরিয়ড চলছে” এইটুকু বলতে দ্বিধাবোধ করি, এই স্বাভাবিক ব্যাপারটা পার করে সমাজের অন্যান্য সমস্যাগুলো পার করবো কখন?
তাই আরেকবার ভাবুন, এখনই সময়!

লকডাউনের দিনগুলো থেকে নিয়ে আসা ১০টি Cool স্মৃতি

একজন ব্যর্থ প্রেমিক আর একজন সফল প্রেমিকের জীবনের মাঝে ৭টি পার্থক্য