ভাল্লাগসেভাল্লাগসে মাইরালামাইরালা কস্কি মমিনকস্কি মমিন সেন্টি খাইলামসেন্টি খাইলাম

আমরা বাংলাদেশিরা যে ৮টি কারণে কখনোই ডায়েট করতে পারি না

জাতি হিসেবেই আমরা প্রচন্ড ভোজনরসিক। আদিকাল থেকেই আমরা গোলা ভর্তি ধান, পুকুর ভর্তি মাছ, আর বাগান ভর্তি ফল, এমন অবস্থার সাথে পরিচিত। তাই খাবার-দাবারের প্রতি আমরা একটু বেশিই আবেগপ্রবন। আমাদের মতে, ধবধবে সাদা ভাতের উপর ২ চামচ ঘি না দিলে ব্যাপারটাই জমে না! তাই পশ্চিমা সভ্যতার সিদ্ধ করা কাঁচা সবজি খেয়ে আর যাই হোক, আমাদের মন কখনোই ভরবে না। আজকাল তাই নানান রকম পশ্চিমা ডায়েট প্ল্যান আমরা ফলো করতে চাই, তবে আমাদের বাঙালিদের জন্য সেগুলা মেনে চলা রীতিমতো অসম্ভব। তার উপর বাঙালি বাবা মায়ের অধিক আদর, আপ্পায়ন তো আছেই, সব মিলিয়ে ভাই বলতেই হবে, আমাদের ডায়েট করার যত প্রচেষ্টাই আমরা করি না কেন, আমাদের জন্য ডায়েট করা ভাই এতো সহজ না!

১. সালাদ –

বিদেশী ডায়েট প্ল্যানে অনেক সময় ডায়েটের গুরুত্বপূর্ন অংশ হিসেবে সালাদ খেতে বলা হয়, তাও আবার As a meal! কিন্তু ভাই আমার প্রশ্ন হলো, সালাদ টা কিসের সাথে খাবো? এমনি এমনি কাঁচা শশা, টমেটো খেয়ে আবার থাকা যায় নাকি? আমরা হলাম পোলাও কোর্মার সাথে সালাদ খাওয়া জাতি।

 

২. স্মোকড/লো অয়েল কুকিং –

এটা পশ্চিমা খাবারের আরেকটা পার্ট যা আমাদের বাঙালিদের মাথার উপর দিয়ে যায়। ছুটির দিন মানেই যেখানে আমাদের জন্য বিশেষ খাবার দাবার, সেখানে লো অয়েল ফুড তো এক প্রকার অপমান। তেল মশলা কষিয়ে মাংস রান্না না করলে সেটা আবার ভোজ হলো নাকি? সর্ষের তেলে মাছ ভেজে, মাছের ঝোলের উপর একটু সর্ষের তেল না দিলে, কিভাবে হলো?

via GIPHY

 

৩. ভাত-ভর্তা –

ভাত আমার রক্তের সাথে মিশে গেছে, যতই আমরা ডায়েট করার চেষ্টা করি না কেন, ভাত ছাড়া যেন মনের তৃপ্তি কখনোই মিটবে না। আর সাথে যদি থাকে কোন ভর্তা, তাহলে তো কথাই নেই। যতই লাল আটার রুটির সাথে সবজি খাওয়ার চেষ্টা করুন না কেন, দিনশেষে আমাদের মন এক প্লেট গরম ভাত, ঘন ডাল আর আলু ভর্তার জন্যই কাঁদে!

 

৪. দাওয়াত –

আমরা একই সাথে ভোজনরসিক এবং অতিথিপরায়ণ। চাচা-মামা-খালা-ফুপা মিলিয়ে আমাদের আত্মীয়ের সংখ্যাও থাকে প্রচুর। তাই প্রতি মাসেই এই-ওই আত্মীয়ের বাসায় দাওয়াত লেগেই থাকে। আপনি, আমি ভাই যতই ইন্টারনেট থেকে দেখে “2 week diet plan” করতে চাই না কেন, তা আমাদের জন্য ইম্পসিবল! দাওয়াতের স্পেশাল বিরিয়ানির গন্ধ পাওয়ার সাথে সাথেই আমাদের মন গলে পানি হয়ে যাওয়া মন্দ কিছু না!

 

৫. চানাচুর, ডাল ভাজা, একটু এটা, একটু ওটা –

বাঙালি এবং বাঙালিদের চানাচুরের প্রতি অগাধ ভালোবাসা! চটপটে স্বাদের খাবার পশ্চিমাদের জন্য হলো Taste enhancer, তবে আমাদের জন্য এটা হলো “নেই কাজ তো, খৈ ভাজ” এর মতো। ভর দুপুর কিংবা মধ্যরাতে অল্প ক্ষুধা মিটাতে, কিংবা বিকালে এক কাপ চায়ের সাথে, অথবা একেবারেই কোনো কারণ ছাড়া চানাচুর চাবাতে আমাদের দারুন লাগে! তাই বাঙালিদের রান্নাঘরে এক প্যাকেট চানাচুর কিংবা ডাল/ মটর ভাজা, মোট কথা ভাজা-চটপটে খাবারের কিছু না কিছু থাকবেই!

via GIPHY

 

৬. যেকোনো অজুহাতে বিশেষ খাবার –

আমাদের কাছে একটু বিশেষ রান্না-বান্নার জন্য কোনো কারণ লাগে না। বাইরে একটু মেঘের ঘনঘটা মানেই বাড়িতে বাড়িতে খিচুড়ি, শীতের সকাল মানেই আবার গরম গরম রসে ভেজানো পিঠা, আর প্রতিবেশী/বন্ধুদের সাথে আড্ডা মানেই গরম চা সাথে সিঙ্গারা/বাকরখানি। আমরা চাইলেও ভাই প্রকৃতি আমাদেরকে কখনোই খাবারকে ভুলে থাকতে দিবে না।

 

৭. শেষটা হোক মিষ্টি কিছু দিয়ে –

যতই আপনি ডায়েট করে মিষ্টি খাওয়া ছেড়ে দিতে চান না কেন, রসগোল্লা, রসমালাই, জিলাপি দেখে লোভ সামলানো আপনার জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। ডায়েট চার্টে যতই লিখা থাকুক না কেন, সুগার ফ্রি খাবার খাবেন। কিন্তু বাঙালির মিষ্টান্ন মানেই ঘি, চিনি, দুধ, ক্রিম। আপনি পালাবেন কোথায়? গরম গরম গুড়ের পায়েসকে বা ফিরনিকে না করার সাধ্য ভাই আমাদের এখনো হয়নি!

via GIPHY

 

৮. পরিশেষে –

আপনি যদি ডায়েট করার পরও কোনো ফলাফল না পান, তার জন্য আসলে নিজেকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। আপনি, আমি, আমরা সবাই জন্ম থেকেই খাবারের সাথে কমিটেড রিলেশনে আছি, এ বন্ধন কখনো ভাঙার নয়।

via GIPHY

Written by Fariha Rahman

ডিপজল ভাইয়ের ৮টি টেমপ্লেটে ৮টি সানডে মানডে ক্লোজ করা মিম

Quiz: বাড়ি ডিজাইন করে জেনে নিন আপনার পরিচিতরা আপনাকে নিয়ে কি ভাবেন