ভাল্লাগসেভাল্লাগসে সেন্টি খাইলামসেন্টি খাইলাম

যে মর্মান্তিক গল্পটি আর কখনো আমাদের জীবনে ফেরত না আসুক

হয়তো চুড়িহাট্টার নন্দকুমার দত্ত লেন দিয়ে আপনি-আমি অনেকবার হেঁটে বা রিক্সায় করে গিয়েছি, ভবিষ্যতে হয়তো আবারো যাব। যাবে আপনার-আমার মতো আরও হাজার হাজার মানুষ। সব কিছু স্বাভাবিক গতিতেই চলতে থাকবে আর সামনে থেকে আমাদের দিকে তাকিয়ে বিদ্রূপের হাসি হাসবে পোড়া বাড়িগুলো। সত্যি বলতে কি জানেন, সমগ্র মানবজাতি বিশেষ করে বাঙালিদের খুব সহজ একটা প্রবৃত্তি হচ্ছে এরা ততক্ষণ পর্যন্ত চুপ থাকে যতক্ষণ কোন কিছুর প্রভাব সরাসরি তাদের জীবনে আঘাত না হানে কিংবা কোন কিছুর দ্বারা নিজে যতক্ষণ ক্ষতিগ্রস্ত না  হয়। একবার ভেবে দেখুন তো পুরান ঢাকা নিয়ে আমাদের কত গর্ব, কিন্তু কখনো কি সমগ্র ঢাকাবাসী এক হয়ে নেমেছি? এক হয়ে আওয়াজ তুলেছি যে একটা আবাসিক এলাকায় কি করে এতগুলো কারখানা থাকতে পারে? তুলিনি; কারন পুরান ঢাকায় তো আর আমরা থাকিনা। সাকরাইনে কই যাব? পুরান ঢাকা; পুজায় কই যাব? পুরান ঢাকা; রোজায় সেরা ইফতারি আইটেম খেতে কই যাব? পুরান ঢাকা। তাহলে কেন সচেতনতার প্রশ্নে এক জোট হয়ে টাকার লোভে আবাসিক এলাকায় কারখানা গড়ে মানুষের জীবনকে এমন মারাত্নক ঝুঁকির মুখে ঢেলে দেয়া দানবদের পুরান ঢাকা থেকে তাড়িয়ে দিতে পারছি না?

 

আমি আবার বলছি, একবার ভেবে দেখুন। নিমতলী দুর্ঘটনার পর বলা হয়েছিলো সব কারখানা সরিয়ে নেয়া হবে, কিন্তু কোন এক অদ্ভুত কারণে তা হয়নি। আর হয়নি বলেই চকবাজার ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হতে হলো আমাদের। নিষ্পাপ প্রাণগুলোকে বলি হতে হলো। এবারও বলা হচ্ছে,  সব সরিয়ে নেয়া হবে। আবার এদিকে বড় বড় মানুষদের কেউ কেউ বলছেন ওখানে নাকি ক্যামিকেল ফ্যাক্টরিই ছিলো না! যাক ভাই আপনারা বড় মাপের নেতা আপনাদের কথাই মেনে নিলাম।

আসলে এদেশে বর্তমান অবস্থাকে এক কথায় বলা যায়, আজকের মৃত্যু আগামীকালের কন্টেন্ট ছাড়া আর কিছুই না। এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মানুষ আগে যেমন মরেছে সামনেও মরবে, তদন্ত কমিটি হবে আর আমরা পরদিন শ্রদ্ধা জানিয়ে হা হুতাশ করে কন্টেন্ট বানাবো, স্ট্যাটাস দিব।  ক’দিন বাজারে খুব কদর থাকবে, লাইক কমেন্টের বন্যায় ভেসে যাবে, এরপর কিছুদিন গেলেই আমরা ফেসবুকটা বন্ধ করে পুরান ঢাকার দিকে যাব ঢাকার সেরা কাচ্চির খোঁজে। তারপর খোঁজ পেয়ে গেলে আবার সেই ফেসবুকেই অন্যদেরকে নিজের এমন বীরত্বের কথা জানানোর জন্য চেক ইন কিংবা স্ট্যাটাস দিব। এইতো, আর কি?  

 

কিন্তু যেটা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তা হলো সচেতনতা। কেন একটা আবাসিক এলাকায় কারখানা থাকবে সেটা নিয়ে কেউ প্রশ্ন করা এবং এর সমাধানে এগিয়ে আসা। যাই হোক, বাদ দেই! এখন আর এসব বলে কি লাভ বলেন? ইতিমধ্যে সিটি কর্পোরেশন সব কিছু ধুয়ে মুছেও ফেলেছে।তার চেয়ে বরং ভবিষ্যৎ কোনো বড় দুর্ঘটনার জন্য বেঁচে থেকে অপেক্ষা করতে থাকি, ঘটলে তারপর না হয় আরেকটা আবেগী লেখা লেখা যাবে…

কারণ এদেশে বেঁচে থাকাটাই সবচেয়ে বড় দেশপ্রেম ভাই!

Written by Bishal Dhar

নাম ধাম তো দেখসেন আর কি দেখেন , অতিরিক্ত কৌতুহল ভালো না যান লেখা পড়েন

গ্যাসের লোডশেডিংয়ে ঢাকার ঘরে ঘরে আজ বারবিকিউ উৎসব ও ডিজে পার্টি

পুরান ঢাকায় ঘটে যাওয়া ১১টি অগ্নিকাণ্ডের স্থান ও অন্যান্য